বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) তাদের বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও সাধারণ বেসামরিক শূন্য পদসমূহে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এক বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর অংশ হিসেবে সম্মানজনক কর্মপরিবেশ, সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা এবং স্থায়িত্বশীল একটি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ। যোগ্যতা ও ইচ্ছানুযায়ী এসএসসি, এইচএসসি, ডিপ্লোমা এবং ট্রেড কোর্স সম্পন্নকারী প্রার্থীরা পদগুলোতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর এই বেসামরিক পদগুলো পেশাগত সাফল্য অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। আপনি যদি অনুশাসনপ্রিয়, কর্মঠ এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান, তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শর্তাদি পূরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন। এই অনুচ্ছেদে আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, পদসংখ্যা, স্কেল, আবেদন পদ্ধতি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
পদের নাম, পদসংখ্যা ও বেতন স্কেল
| পদের নাম | পদসংখ্যা | বেতন স্কেল & গ্রেড |
| ড্রাফটসম্যান (পুরুষ) | ০১ টি | ৯,৩০০ – ২২,৪৯০/- (গ্রেড-১৬) |
| কার্পেন্টার (পুরুষ) | ০৩ টি | ৯,৩০০ – ২২,৪৯০/- (গ্রেড-১৬) |
| কমিউনিকেশন টেকনিশিয়ান গ্রেড-৪ (পুরুষ) | ১৪ টি | ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (গ্রেড-১৭) |
| মিডওয়াইফ (মহিলা) | ০৫ টি | ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (গ্রেড-১৭) |
| সহকারী ওবিএম ড্রাইভার (পুরুষ) | ১২ টি | ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (গ্রেড-১৭) |
পদের নাম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
| পদের নাম | ন্যূনতম সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা |
| ড্রাফটসম্যান | এসএসসি/সমমান (ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০) |
| কার্পেন্টার | জেএসসি/সমমান |
| কমিউনিকেশন টেকনিশিয়ান | এইচএসসি বিজ্ঞান (জিপিএ ২.৫০) এবং এসএসসি (জিপিএ ৩.০০) |
| মিডওয়াইফ | এসএসসি/সমমান (ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০) |
| সহকারী ওবিএম ড্রাইভার | এসএসসি/সমমান (ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০) |
কারিগরি সনদ ও অভিজ্ঞতার শর্তাবলি
| পদের নাম | প্রয়োজনীয় কারিগরি সনদ / কোর্স | বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা |
| ড্রাফটসম্যান | স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে ড্রাফটসম্যানশিপে ডিপ্লোমা | ২ বছর |
| কার্পেন্টার | সংশ্লিষ্ট কার্পেন্টারি কাজের দক্ষতা | ২ বছর |
| কমিউনিকেশন টেকনিশিয়ান | কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স | ২ বছর |
| মিডওয়াইফ | মিডওয়াইফারী কোর্স/সনদপত্র | ১ বছর |
| সহকারী ওবিএম ড্রাইভার | ওয়াটার ক্রাফট/ওবিএম চালনায় প্রশিক্ষণ | ১ বছর |
ধাপ অনুযায়ী নিয়োগ ও পরীক্ষা প্রক্রিয়া
| পরীক্ষার ধাপ | যেসকল পদের জন্য প্রযোজ্য | বিবরণ / শর্ত |
| ১ম ধাপ | সকল পদ | প্রাথমিক শারীরিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা |
| ২য় ধাপ | অফিস সহকারী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) | কম্পিউটার টাইপিং (বাংলা ও ইংরেজি) গতি পরীক্ষা |
| ৩য় ধাপ | প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও টাইপিংয়ে উত্তীর্ণরা | নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা |
| ৪র্থ ধাপ | লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা | ল্যাব টেস্ট (HBsAg, Blood Sugar, Dope Test ইত্যাদি) |
| ৫ম ধাপ | স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা | ব্যবহারিক ও চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) |
মৌখিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
| ক্র. নং | প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের নাম | নোট / ধরন |
| ১ | শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ | মূল কপি ও সত্যায়িত ফটোকপি |
| ২ | কারিগরি/অভিজ্ঞতার সনদপত্র | স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত |
| ৩ | চারিত্রিক ও নাগরিকত্ব সনদ | ১ম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার ও ইউপি/পৌরসভা থেকে |
| ৪ | অভিভাবকের সম্মতিপত্র | চাকরিতে যোগদানে অভিভাবকের অনাপত্তি |
| ৫ | ছবি ও এনআইডি (NID) | নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদ |
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি PDF

চাকরির বিবরণ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের অর্গানোগ্রামভুক্ত বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল ক্যাটাগরিতে পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক বাছাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার প্র্যাকটিক্যাল (নির্দিষ্ট পদের ক্ষেত্রে) এবং চূড়ান্ত ভাইভার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। রাজস্ব খাতভুক্ত এই সরকারি পদগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগ্য প্রার্থীরা নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।
যেসব পদের জন্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ড্রাফটসম্যান, কার্পেন্টার, কমিউনিকেশন টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ, সহকারী ওবিএম ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, লাইব্রেরি সহকারী ইত্যাদি। প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ডিজিটালাইজড বিজিবি ই-রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদনকারীকে বিজিবির নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে সঠিকভাবে তথ্য পূরণ ও জমা নিশ্চিত করতে হবে।
পদভিত্তিক যোগ্যতা ও বিস্তারিত বিবরণ
নিচে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত প্রধান প্রধান পদসমূহের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদের সংখ্যা, স্কেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলো।
১. ড্রাফটসম্যান (পুরুষ) (গ্রেড-১৬)
- পদসংখ্যা: ০১ টি।
- বেতন স্কেল: ৯,৩০০ – ২২,৪৯০/- (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে অন্যূন জিপিএ-৩.০০ সহ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- কারিগরি যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে ড্রাফটসম্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন হতে হবে।
- অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে অন্যূন ২ (দুই) বছরের বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
২. কার্পেন্টার (পুরুষ) (গ্রেড-১৬)
- পদসংখ্যা: ০৩ টি।
- বেতন স্কেল: ৯,৩০০ – ২২,৪৯০/- (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে অন্যূন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
- অভিজ্ঞতা: কাঠ বা কার্পেন্টারি কাজের ওপর অন্যূন ২ (দুই) বছরের বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।
৩. কমিউনিকেশন টেকনিশিয়ান গ্রেড-৪ (পুরুষ) (গ্রেড-১৭)
- পদসংখ্যা: ১৪ টি।
- বেতন স্কেল: ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে বিজ্ঞান বিভাগে অন্যূন জিপিএ-২.৫০ সহ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় এবং অন্যূন জিপিএ-৩.০০ সহ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- কারিগরি যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে ন্যূনতম সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন।
- অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ২ (দুই) বছরের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৪. মিডওয়াইফ (মহিলা) (গ্রেড-১৭)
- পদসংখ্যা: ০৫ টি।
- বেতন স্কেল: ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে অন্যূন জিপিএ-৩.০০ সহ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
- কারিগরি যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে মিডওয়াইফারী কোর্স বা সার্টিফিকেটধারী হতে হবে।
- অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ১ (এক) বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৫. সহকারী ওবিএম ড্রাইভার (পুরুষ)
- পদসংখ্যা: ১২ টি।
- বেতন স্কেল: ৯,০০০ – ২১,৮০০/- (গ্রেড-১৭)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড হতে অন্যূন জিপিএ-৩.০০ সহ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
- কারিগরি योग्यता ও অভিজ্ঞতা: ওয়াটার ক্রাফট/ওবিএম চালনায় অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সনদপত্র।
৬. ইলেকট্রিশিয়ান ও লাইব্রেরি সহকারী
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৩.০০ সহ পাস।
- কারিগরি কোর্স: ইলেকট্রিশিয়ান পদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে ইলেকট্রিশিয়ান ট্রেড কোর্স এবং লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্টের ক্ষেত্রে লাইব্রেরি সাইন্সে সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন হতে হবে।
- অভিজ্ঞতা: পদভেদে ১ থেকে ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক।
আবেদন করার ধাপ ও নিয়মাবলী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বেসামরিক পদের সকল আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে। ভুল আবেদন বা অসম্পূর্ণ আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। নিচে ধাপভিত্তিক নির্দেশিকা দেয়া হলো:
ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ
প্রার্থীকে প্রথমেই বিজিবির নির্ধারিত ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট https://joinborderguard.bgb.gov.bd এ প্রবেশ করতে হবে।
ধাপ ২: পদ নির্বাচন ও ফর্ম পূরণ
নিজের যোগ্যতা অনুসারে কাঙ্ক্ষিত পদটি বাছাই করুন। আবেদন ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জন্ম তারিখ, অভিজ্ঞতা ও ঠিকানা সঠিকভাবে ইনপুট দিন। কারিগরি বোর্ডের যেসব প্রার্থীর রেজাল্ট অনলাইনে সরাসরি পাওয়া যায় না, তারা বোর্ডের তালিকায় “অন্যান্য” (Other) সিলেক্ট করবেন।
ধাপ ৩: ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড
সাম্প্রতিক তোলা স্পষ্ট রঙ্গিন ছবি (নীল ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বলিত) এবং প্রার্থীর স্বাক্ষর নির্ধারিত সাইজে স্ক্যান করে আপলোড করুন।
ধাপ ৪: তথ্য পুনর্নিরীক্ষণ ও জমা
সম্পূর্ণ তথ্য পূরণের পর “তথ্য যাচাই করুন” অংশে গিয়ে সব ঠিক আছে কিনা পুনরায় মিলিয়ে নিন। একবার চূড়ান্ত সাবমিট হয়ে গেলে তথ্য আর পরিবর্তন করা যাবে না। সকল তথ্য সঠিক থাকলে “আপনি কি আপনার তথ্য জমা দিতে চান” চেক বক্সে টিক দিয়ে “সাবমিট করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: ফি প্রদান ও কনফার্মেশন
আবেদন সাবমিট করার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা দেয়ার পর কোনো অবস্থাতেই তা অফেরতযোগ্য এবং আবেদনের তথ্য কোনোভাবেই সংশোধন করা সম্ভব নয়।
ধাপ ৬: এডমিট কার্ড ডাউনলোড
আবেদন সফল হলে পরীক্ষার্থীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে SMS পাঠানো হবে। মেসেজ পাওয়ার পর বিজিবির পোর্টাল থেকে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে এডমিট কার্ড (Admit Card) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিতে হবে। परीक्षा কেন্দ্রে এই প্রিন্ট কপি উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।
নিয়োগ ও বাছাই প্রক্রিয়া
বিজিবি বেসামরিক পদের নিয়োগ পরীক্ষা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে অনুষ্ঠিত হয়:
- প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা: সকল পদের প্রার্থীদের প্রথম ধাপে শারীরিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
- টাইপিং টেস্ট (শুধু অফিস সহকারী পদে): অফিস সহকারী বা কম্পিউটার পদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কম্পিউটার টাইপিং (বাংলা ও ইংরেজি) স্পিড টেস্ট নেওয়া হবে।
- লিখিত পরীক্ষা: প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণদের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
- চূড়ান্ত স্বাস্থ্য ও ল্যাব পরীক্ষা: লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাছাই কমিটির সুপারিশকৃত প্রার্থীদের শারীরিক ফিটনেস নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু মেডিকেল টেস্ট করানো হবে।
- HBsAg
- Anti HCV
- Fasting Blood Sugar
- HbA1C
- Serum Creatinine
- Urine R/E
- Dope Test(পরীক্ষার ফলাফলে Dope Test এবং অপরাপর রক্ত পরীক্ষায় “Not Detected” বা নরমাল রিপোর্ট আসা বাধ্যতামূলক।)
- মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা): চূড়ান্ত মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীগণ ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। সফল প্রার্থীদের মেধাক্রম ও কোটা অনুযায়ী চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস
পরীক্ষা কেন্দ্র ও পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার সময় আবেদনকারীকে নিচের মূল কাগজপত্র (Original Copies) এবং সত্যায়িত ফটোকপি অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে:
- সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র ও ট্রানস্ক্রিপ্ট/মার্কেটশিট।
- সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতার আসল সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র (যাতে ঠিকানা ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে)।
- ইউপি চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদপত্র।
- ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত চারিত্রিক সনদপত্র।
- প্রার্থীর অভিভাবক কর্তৃক প্রাপ্ত “চাকরিতে যোগদানে সম্মতিসূচক” অনুমতিপত্র বা অনাপত্তিপত্র।
- সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি (নীল ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত)।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ (Key Dates Highlight)
- অনলাইন আবেদন শুরুর তারিখ: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দেশিত তারিখ অনুযায়ী।
- অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখ: অফিসিয়াল পোর্টালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত।
- আবেদন ফি জমাদানের সময়: আবেদন সাবমিটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।
- পরীক্ষা ও এডমিট কার্ড বিজ্ঞপ্তি: আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস (SMS) এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কেন এই চাকরিতে আবেদন করবেন? (Career Insight Section)
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কেবল একটি চাকরি নয়, বরং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের এক সম্মানিত ক্ষেত্র। সাধারণ বেসরকারী চাকরির তুলনায় বিজিবি-তে বেসামরিক কর্মী হিসেবে যোগদানের বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে:
- ক্যারিয়ার স্থায়িত্ব: রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি চাকরি হওয়ায় এতে শতভাগ পেশাগত নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব পাওয়া যায়।
- আকর্ষণীয় বেতন ও ভাতা: সরকার নির্ধারিত ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডের মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পেনশন সুবিধা রয়েছে।
- সম্মানজনক কর্মপরিবেশ: সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সুশৃঙ্খল ও নিয়মকানুন নির্ভর পরিবেশে কাজ করার সুযোগ ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিকে উন্নত করে।
- দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ: টেকনিক্যাল পদগুলোতে কর্মরতদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং কারিগরি দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য ও সতর্কবার্তা
আবেদনকারী প্রার্থীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজস্ব তথ্য পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো পর্যায়ে ভুল বা ভুয়া তথ্য প্রদান করলে কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করলে আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো আর্থিক লেনদেন বা দালালের খপ্পরে না পড়ার জন্য কর্তৃপক্ষ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিজিবির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। সরকারি নীতি ও নিয়মাবলী পরিপন্থী কোনো কাজ করলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
Leave a Comment