গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এক বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএফপিএ (UNFPA)-এর অর্থায়নে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবসেবা জোরদারকরণ এবং দেশব্যাপী মিডওয়াইফারি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্বাচিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (MCWC) এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (UH&FWC)-সমূহে শূন্য পদ পূরণের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিক একটি চাকরি হলেও সরকারি প্রকল্পের অধীনে কাজ করার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে ক্যারিয়ার গড়ার এটি একটি চমৎকার সুযোগ।
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থায়ী মহিলা নাগরিকদের নিকট হতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। যোগ্য এবং আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪:০০ ঘটিকার মধ্যে সরাসরি বা ডাকযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পাস প্রার্থীরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতি মাসে সাকুল্যে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা বেতন পাবেন। গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যারা অবদান রাখতে চান, তাদের জন্য এই চাকরি অত্যন্ত সম্মানজনক ও ক্যারিয়ারের জন্য মাইলফলক হতে পারে।
সাধারণ তথ্যাবলী
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP) |
| উদ্যোগ ও ইউনিট | এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট |
| অর্থায়নকারী সংস্থা | জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) |
| পদের নাম | মিডওয়াইফ (Midwife) |
| মোট শূন্য পদ | ৪৩টি (প্লাস একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হবে) |
| চাকরির ধরন | সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক (প্রকল্প মেয়াদী) |
যোগ্যতা ও বয়সসীমা
| যোগ্যতার বিষয় | প্রয়োজনীয় বিবরণ |
|---|---|
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পাস |
| কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন | বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) এর বৈধ সনদ |
| অগ্রাধিকার | প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবায় অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার |
| সাধারণ প্রার্থীর বয়স | সর্বোচ্চ ৩০ বছর (০১/০৭/২০২৬ তারিখে) |
| কোটার প্রার্থীর বয়স | মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর |
| লিঙ্গ সমতা | শুধুমাত্র মহিলা নাগরিক আবেদন করতে পারবেন |
বেতন ও কর্মস্থল
| সুবিধার খাত | বিবরণ |
|---|---|
| মাসিক বেতন | সর্বসাকুল্যে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা |
| অন্যান্য ভাতা | প্রযোজ্য নয় (উৎসব বা অন্যান্য ভাতা নেই) |
| প্রাথমিক চাকরির মেয়াদ | ৩১/১২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত (মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে) |
| সম্ভাব্য কর্মস্থল | নির্বাচিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (MCWC) এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (UH&FWC) |
| টিএ/ডিএ (TA/DA) | নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো যাতায়াত বা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হবে না |
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও যোগাযোগের তথ্য
| জরুরি বিষয় | তথ্য ও লিংক |
|---|---|
| বয়স নির্ধারণের তারিখ | ০১ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ০৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ, বিকাল ০৪:০০ ঘটিকা |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.dgfp.gov.bd |
| যোগাযোগের ই-মেইল | dirmchsfp@gmail.com |
| যোগাযোগের ফোন নম্বর | ০২-৫৫০১২৩৫৮ (অফিস) |
| ঠিকানা | ৬, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ |
আবেদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া
| প্রক্রিয়ার ধাপ | নিয়মাবলী |
|---|---|
| আবেদন পদ্ধতি | অফলাইন (সাদা কাগজে স্পষ্টাক্ষরে বাংলায় লিখে আবেদন করতে হবে) |
| আবেদন পাঠানোর ঠিকানা | পরিচালক (এমসিএইচ-সার্ভিসেস), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর |
| প্রয়োজনীয় সংযুক্তি | সকল সনদের সত্যায়িত কপি, BNMC রেজিস্ট্রেশন, নাগরিকত্ব সনদ, রঙিন ছবি ও NID |
| প্রবেশপত্র প্রাপ্তি | প্রার্থীর আবেদনপত্রে দেওয়া ব্যক্তিগত ই-মেইলে (Email) পাঠানো হবে |
| পরীক্ষার মাধ্যম | প্রবেশপত্রের প্রিন্ট কপি ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না |
| বাছাই প্রক্রিয়া | মেধা ও মৌখিক পরীক্ষার কাগজপত্রের মূল কপি যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্ত নির্বাচন |
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি PDF

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ এর বিস্তারিত বিবরণ
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উইং হলো পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP)। দেশের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস করতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফদের ভূমিকা অপরিসীম। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএ (UNFPA) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গ্রামীণ পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিশেষ নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারের নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষ জনবলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় মোট ৪৩টি সেবা কেন্দ্রে সরাসরি মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এর পাশাপাশি একটি অপেক্ষমাণ বা ওয়েটিং লিস্ট তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে শূন্য পদ তৈরি হওয়া সাপেক্ষে বা প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেহেতু এটি একটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক পদ, প্রাথমিক অবস্থায় চাকরির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। তবে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য একটি সুখবর হলো, ইউএনএফপিএ-এর তহবিল প্রাপ্তি এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এই চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, এই ধরনের প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কর্মরত কর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ পান।
যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) থেকে বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা সনদধারী হতে হবে। প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রমে যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। তবে নতুন পাস করা প্রার্থীরাও সমানভাবে আবেদনের সুযোগ পাবেন যদি তাদের একাডেমিক রেকর্ড এবং কাউন্সিলের লাইসেন্স ঠিক থাকে। বয়সসীমার ক্ষেত্রে ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে পারবে, যা সাধারণ সরকারি চাকরির নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য করা হয়েছে।
পদের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই বিশেষ নিয়োগ কার্যক্রমে পদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে “মিডওয়াইফ”। এটি মূলত নার্সিং খাতের একটি বিশেষায়িত শাখা যা গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন এবং প্রসবপরবর্তী সেবা প্রদানের জন্য ডেডিকেটেড। এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই যে কোনো স্বীকৃত নার্সিং ইনস্টিটিউট বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ৩ (তিন) বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার এই শর্তটি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করা হয়, তাই সাধারণ নার্সিং বা অন্য কোনো বিষয়ের ডিগ্রিধারীরা এই পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) এর সক্রিয় রেজিস্ট্রেশন। আবেদনপত্রের সাথে এই রেজিস্ট্রেশন বা সনদের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কোনো প্রার্থীর পরীক্ষা শেষ হয়ে থাকে কিন্তু কাউন্সিলের মূল সনদ বা সাময়িক সনদ না থাকে, তবে তিনি আবেদন করতে পারবেন না। অভিজ্ঞতা এই পদের জন্য বাধ্যতামূলক না হলেও এটিকে একটি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে যারা পূর্বে কোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (NGO) প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কিংবা পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সরাসরি কাজ করেছেন, ভাইভা বোর্ডে তাদের মেধার মূল্যায়ন ভিন্নভাবে করা হতে পারে।
আবেদন পদ্ধতি ও ফরম পূরণের নিয়মাবলী
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের সম্পূর্ণ অফলাইন পদ্ধতিতে অর্থাৎ কাগজের আবেদনপত্রের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের কোনো সুযোগ এই বিজ্ঞপ্তিতে রাখা হয়নি। প্রার্থীদের একটি সাদা কাগজে অথবা এ৪ সাইজের কাগজে স্পষ্টাক্ষরে বাংলায় একটি আবেদনপত্র তৈরি করতে হবে। আবেদনপত্রটি সরাসরি পরিচালক (এমসিএইচ-সার্ভিসেস) ও সভাপতি, মিডওয়াইফ নিয়োগ কমিটি বরাবর সম্বোধন করে লিখতে হবে। আবেদনপত্রটি প্রস্তুত করার পর তা আগামী ০৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকাল ০৪:০০ ঘটিকার মধ্যে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাপ্ত কোনো আবেদনপত্র কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করা হবে না।
আবেদনপত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যাদি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উল্লেখ করতে হবে। সামান্য ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতির কারণে আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে। আবেদনপত্রে যে তথ্যগুলো অবশ্যই থাকতে হবে তা হলো: প্রার্থীর নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম এবং বিবাহিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বামীর নাম। ঠিকানার ক্ষেত্রে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদাভাবে ও স্পষ্টভাবে লিখতে হবে, যার মধ্যে গ্রাম বা মহল্লা, ডাকঘর, পোস্ট কোড নম্বর, উপজেলা এবং জেলার নাম উল্লেখ থাকা আবশ্যক। এছাড়াও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ, ধর্ম, অভিজ্ঞতা (যদি থাকে), বৈবাহিক অবস্থা এবং সন্তান সংখ্যা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) উল্লেখ করতে হবে। যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ পরবর্তী সকল যোগাযোগ এই মাধ্যমেই করা হবে। সবশেষে আবেদনপত্রের নিচে প্রার্থীর নিজস্ব স্বাক্ষর থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও সংযুক্তির তালিকা
আবেদনপত্রের সাথে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি বা ফটোকপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কোনো একটি ডকুমেন্ট বাদ পড়লে বা সত্যায়িত না থাকলে আবেদনটি অসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য করে বাতিল করা হবে। প্রথমত, ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পাসের মূল সনদপত্র বা সাময়িক সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদপত্রের কপি সংযুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) কর্তৃক প্রদত্ত হালনাগাদ রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত অনুলিপি অবশ্যই দিতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিন বা চার কপি রঙিন ছবি আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করতে হবে, যা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে। চতুর্থত, প্রার্থীর স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক ও নাগরিকত্ব সনদের মূল বা সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। পঞ্চমত, প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। যদি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটার অধীনে আবেদন করতে চান, তবে তাকে উপযুক্ত প্রমাণপত্র বা মন্ত্রণালয়ের সনদপত্রের সত্যায়িত কপি যুক্ত করতে হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা পদ্ধতি
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে থাকে। আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করার পর শুধুমাত্র বৈধ ও যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র বা এডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এই বিজ্ঞপ্তির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাকযোগে পাঠানো হবে না, বরং প্রার্থীর আবেদনপত্রে উল্লেখিত ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানায় ডিজিটাল আকারে প্রেরণ করা হবে। প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে ই-মেইল থেকে প্রবেশপত্রটি ডাউনলোড করে রঙিন বা সাদা-কালো প্রিন্ট করে নিতে হবে। পরীক্ষার দিন এই প্রিন্টকৃত প্রবেশপত্র সাথে আনা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণত দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে: লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত মিডওয়াইফারি বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান, প্রসূতি বিদ্যা, নবজাতকের যত্ন, সাধারণ বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীর সকল মূল সনদপত্র, বিএনএমসি রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের কোনো প্রকার দৈনিক ভাতা (TA) বা যাতায়াত/আপ্যায়ন ভাতা (DA) প্রদান করা হবে না। প্রার্থীদের সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
কর্মস্থল ও চাকরির সুবিধাসমূহ
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত মিডওয়াইফদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (MCWC) এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (UH&FWC)-সমূহে পদায়ন করা হবে। এগুলো মূলত গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় অবস্থিত। তাই নির্বাচিত প্রার্থীদের যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। বিশেষ করে যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার ঘাটতি রয়েছে, সেই কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মস্থলে মিডওয়াইফদের মূল কাজ হবে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা এবং প্রসব পরবর্তী জটিলতা ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখা।
আর্থিক সুবিধার দিক থেকে এই পদটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতি মাসে সর্বসাকুল্যে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা ফিক্সড বা সাকুল্যে বেতন পাবেন। যেহেতু এটি প্রকল্প ভিত্তিক চাকরি, তাই মূল বেতনের বাইরে সরকারি নিয়মিত কর্মচারীদের মতো উৎসব ভাতা বা অন্যান্য প্রথাবদ্ধ সুবিধা এই মুহূর্তে প্রযোজ্য নয়। তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সরাসরি কাজের সার্টিফিকেট ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
কেন আপনি এই চাকরিতে আবেদন করবেন
আপনি যদি নার্সিং বা মিডওয়াইফারি ব্যাকগ্রাউন্ডের হয়ে থাকেন, তবে এই চাকরিতে আবেদন করা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য একটি সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রথমত, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP) এর মতো একটি বড় সরকারি উইংয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আপনার জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি (CV)-কে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে। দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়ন করছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA), যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত সুপরিচিত। ইউএনএফপিএ-এর প্রোটোকল অনুযায়ী কাজ করার ফলে আপনি আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারবেন।
এছাড়া, এই পদের বেতন কাঠামো (চল্লিশ হাজার টাকা) বর্তমান বাজারের সাপেক্ষে একজন ডিপ্লোমাধারীর জন্য বেশ সম্মানজনক। যদিও প্রাথমিক মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, তবুও এই ধরনের মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালিত হয়। ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারলে এবং প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে আপনার চাকরির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যখন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে স্থায়ী বা রাজস্ব খাতের মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে, তখন এই প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন এবং অগ্রাধিকার পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ ও হাইলাইটস
প্রার্থীদের সুবিধার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত অত্যন্ত জরুরি কিছু তারিখ নিচে আলাদাভাবে হাইলাইট করা হলো, যা মনেরাখা অত্যন্ত আবশ্যক:
- আবেদনপত্র জমার শেষ তারিখ ও সময়: ০৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ, বিকাল ০৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত।
- বয়স গণনার নির্ধারণী তারিখ: ০১ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে প্রার্থীর বয়সসীমা হিসাব করা হবে।
- চাকরির প্রাথমিক মেয়াদকাল: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত (অর্থায়ন সাপেক্ষে মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে)।
- প্রবেশপত্র প্রাপ্তির মাধ্যম: প্রার্থীর নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য ও সতর্কীকরণ
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে তদবির, সুপারিশ বা অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা প্রার্থীর চূড়ান্ত অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনো চক্র বা দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য প্রার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী আংশিক বা সম্পূর্ণ পরিবর্তন, পরিবর্ধন অথবা বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করার সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। নিয়োগ পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে নিয়োগকারী কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিস্তারিত আপডেটের জন্য প্রার্থীদের নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.dgfp.gov.bd) ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হলো।
Leave a Comment